‘আন্দোলনে যাওয়ার আগে ছেলে ফোন করে বলেছিল, আব্বু দোয়া কর’

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৬ দুপুর
  • ২৭২০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে নিহত শহীদ রাসেল রানার বাবা মজিবর রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনে যাওয়ার আগে ছেলে ফোন করে তাঁর কাছে দোয়া চেয়েছিল। পরে নারায়ণগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মজিবর রহমান।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। তাঁর ছেলে রাসেল নারায়ণগঞ্জে ফুফাতো ভাই বুলবুলের সঙ্গে ইব্রাহিম কারখানায় কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে রাসেল ফোন করে পরিবারের খোঁজ নেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আব্বু আমার জন্য দোয়া কর।’ এরপর তিনি আন্দোলনে চলে যান।

মজিবর রহমান বলেন, ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাসেলের এক বন্ধুর ফোন থেকে তাঁকে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে রাসেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর বুকে গুলি লেগেছে এবং অবস্থা গুরুতর। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে—এ কারণে পরিবারকে সেখানে যেতে বলা হয়।

তিনি জানান, নওগাঁয় কারফিউ জারি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় আসতে পারেননি। রাসেল নারায়ণগঞ্জে থাকলেও তাঁর পরিবার নওগাঁয় বসবাস করত। এ কারণে রাসেলের কর্মস্থলের মালিক ও তাঁর আত্মীয় বুলবুল এবং চাচাতো ভাই রফিকুলকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান।

মজিবর রহমানের ভাষ্য, ২২ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বুলবুল ফোন করে তাঁকে জানান, রাসেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। পরে তিনি বুলবুলকে ছেলের মরদেহ নওগাঁয় নিয়ে আসার অনুরোধ করেন। বুলবুল অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাসেলকে দাফন করা হয়।

জবানবন্দিতে রাসেলের বাবা আরও বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর বিভিন্ন পত্রিকা, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, রাসেল নিহত হওয়ার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, ভিকি, সাংবাদিক রাজু, রিয়াদ, ডিস বাবুলসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র হাতে চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করতে করতে নারায়ণগঞ্জের বিবি রোড ও নয়ামাটি এলাকার দিকে যান।

তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার ভিডিও অনেকে ধারণ করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীরাও বিষয়টি দেখেছেন। তাঁর দাবি, আসামিদের গুলিতেই তাঁর ছেলে রাসেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে মজিবর রহমান তৎকালীন সরকার ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad