জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ দুপুর
  • ২২৪২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বিশ্বনেতাদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশ ও অধিবেশনের উদ্বোধনী আয়োজনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন।

ভাষণে গুরুত্ব পাবে জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকট

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

একই দিন বিকেলে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাইড ইভেন্ট

সফরে বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি-বিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাত, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।

নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এবারের সফরে তাঁর সঙ্গে তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিনিধিদল থাকবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad