মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা, অপ্রতীমকে পিটিয়ে হত্যার দাবি পুলিশের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ দুপুর
  • ৪৫৬৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছিনতাইয়ে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

সিসিটিভি ফুটেজে মেলে তুহিনের তথ্য

পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।

অপ্রতীমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তুহিন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে অপ্রতীমকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

বাধা দেওয়ায় লাঠি দিয়ে আঘাত

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি হয়।

একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আরও কেউ জড়িত কি না তদন্ত

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হবে।

গ্রেপ্তার ও আটক ব্যক্তিদের পরিচয়

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিন সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকার নুরে আলমের ছেলে। ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. কামরুল হাসান কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া, কালিবাজার এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

আটক সিয়ামের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার এলাহীপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীন, মো. জিয়াউর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad