আইফোন ছিনিয়ে নিতে অপ্রতিমকে নির্জন বনে নিয়ে হত্যা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ বিকাল
  • ৩৩৭৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন বনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই চলছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতীম

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রথমে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।

অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তুহিন অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলে পুলিশ জানায়।

ধস্তাধস্তির পর মাথায় লাঠির আঘাত

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতীম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

যেভাবে উদ্ধার হলো মোবাইল ফোন

পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানা যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

এরপর তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হবে।

গ্রেপ্তার ও আটক ব্যক্তিদের পরিচয়

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকার নুরে আলম ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। তিনি একই ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। তিনি ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. কামরুল হাসান। তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া, কালিবাজার এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ও কুলসুম আক্তারের ছেলে।

আটক সিয়ামের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার এলাহীপুর এলাকার সেলিম মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীন, মো. জিয়াউর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad