গেটম্যান নেই ৫৬ লেভেল ক্রসিংয়ে, দুই বছরে প্রাণ গেল ৭৪ জনের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ দুপুর
  • ২২৯৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে নিরাপত্তাহীন লেভেল ক্রসিংয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। ৭৭টি অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের পাশাপাশি বৈধ ৯৯টি ক্রসিংয়ের ৫৬টিতেও নেই গেটম্যান। অনেক স্থানে ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন ও পথচারীদের প্রবেশ ঠেকানোর কার্যকর ব্যারিয়ারও নেই। ফলে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করা এ রেলপথে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন মানুষ।

রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত হন। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ দুই বছরেরও কম সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৪ জন। শুধু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

নতুন রেলপথ, পুরোনো ঝুঁকি

১৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৯৯টি। এর বাইরে অবৈধ ক্রসিং রয়েছে ৭৭টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশে বৈধ ক্রসিং ২৭টি এবং অবৈধ ৪৭টি। দোহাজারী-কক্সবাজার অংশে বৈধ ক্রসিং ৭২টি এবং অবৈধ ৩০টি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ২২টি অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করা হয়েছে। আরও ৩৫টি বন্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে নতুন নির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার অংশেই নিরাপত্তার ঘাটতি তুলনামূলক বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই অংশে ৭২টি বৈধ লেভেল ক্রসিং থাকলেও সবগুলোতে গেটম্যান নেই। কোথাও কোথাও ট্রেন আসার সময় যানবাহন বা পথচারীদের প্রবেশ ঠেকানোর কার্যকর ব্যারিয়ারও নেই। অথচ এই পথে প্রতিদিন দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে।

তিন বছরে নিহত ১০১

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর প্রায় তিন বছরে ১০১ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে রেলওয়ে পুলিশের তথ্য থেকে জানা গেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ২৭ জন, ২০২৫ সালে ৪৩ জন এবং ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় একটি হাতিরও মৃত্যু হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের নয় মাস শেষ হওয়ার আগেই আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একের পর এক দুর্ঘটনা

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের কাঠগড় লেভেল ক্রসিংয়ে পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুস শুক্কুর ও যাত্রী আবু তাহের নিহত হন। দুর্ঘটনার পর নিরাপদ লেভেল ক্রসিং ও গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইন অবরোধ করেন।

এর আগে ৩ জুন সাতকানিয়ার ঢেমশা এলাকায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে নুরুন্নাহার বেগম নিহত হন।

শুধু প্রাণহানি নয়, লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তাহীনতায় ব্যাহত হচ্ছে রেল যোগাযোগও। গত ২১ সেপ্টেম্বর পটিয়ার একটি অননুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েক ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

অবৈধ ক্রসিং নিয়ে রেলওয়ের বক্তব্য

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানীয় লোকজন নিজেদের প্রয়োজন ও সুবিধার জন্য রেললাইনের ওপর দিয়ে এসব অবৈধ পারাপারের পথ তৈরি করেছেন। এসব পথে চলাচলের সময় অসতর্কতার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রেললাইনে চলাচলের ক্ষেত্রে মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতার অভাবেই মূলত অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।

তবে দুর্ঘটনা কমাতে শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলো আগেই চিহ্নিত করে সেখানে গেটম্যান, ব্যারিয়ার, সতর্কসংকেত এবং নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে বলেন, রেলে যাতে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

রেলপথে ট্রেনের গতি ও সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে যাত্রীর সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু লেভেল ক্রসিংয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে আধুনিক রেল যোগাযোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যাবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad