পাটওয়ারীর ওপর হামলা: ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩২ দুপুর
  • ১৭৭৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদলের কুষ্টিয়া শহর শাখার সদস্য সংগ্রাম হোসেন ও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাফিদ শরিফ পাপন হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তালহার অভিযোগ, হামলার পর মামলা করতে কুমারখালী থানায় গেলেও পুলিশের অসহযোগিতার কারণে তারা মামলা করতে পারেননি। রাত ১২টার পর তাদের থানা থেকে চলে আসতে হয়।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসব অভিযোগ করেন তালহা। পরে সোমবার তিনি গণমাধ্যমের কাছেও একই অভিযোগ করেন।

থানায় ‘মবের চেষ্টা’র অভিযোগ

তালহা বলেন, পাটওয়ারীর ওপর হামলার পর রাত ৯টার দিকে তারা কুমারখালী থানায় যান। প্রথমে ওসি জামাল উদ্দিন মামলা নেওয়ার কথা বললেও পরে নানা টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ তার।

তার আরও অভিযোগ, থানার কম্পাউন্ডে অবস্থানকালে এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। তাদের কেউ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখালে ১৫০ থেকে ২০০ লোক হামলা চালাতে পারে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

যেভাবে হামলা

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভেড়ামারা উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব শোভন আহমেদ জানান, রোববার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে সন্ধ্যায় লালন আখড়াবাড়িতে যান। সেখানে বাউলদের গান শুনে বের হওয়ার সময় দুজন নারী পাটওয়ারীর সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করেন।

এ সময় হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে একজন ডিম ছোড়ে। এরপর ২০ থেকে ২৫ জন যুবক এসে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে পাটওয়ারীর দিকে তেড়ে আসে বলে তিনি জানান। এতে এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

আখড়াবাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকের সামনে তাদের গাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। পরে পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলের দুই নেতার পরিচয়

স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলায় অভিযুক্ত সংগ্রাম হোসেন কুষ্টিয়া শহর ছাত্রদলের সদস্য এবং রাফিদ শরিফ পাপন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক। তারা জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাতের অনুসারী বলেও সূত্রের দাবি।

সূত্র আরও জানায়, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শিগগিরই জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সেই কমিটিতে সদস্য সচিব হওয়ার চেষ্টা করছেন সংগ্রাম হোসেন।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বাধায় এনসিপির বিক্ষোভ পণ্ড

এদিকে পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার কুষ্টিয়ায় এনসিপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ।

বিকাল ৪টা থেকে শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হন। মিছিল নিয়ে সড়কে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে সেখানে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় ‘পুলিশ দিয়ে রাজনীতি, চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌসি টনি বলেন, পুলিশ তাদের রাস্তায় বের হতে দেয়নি। কার নির্দেশে এবং কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তাদের সড়কে যেতে দেওয়া হয়নি।

এ সময় এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌসি টনি, সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহাসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র; কুমারখালী থানা ও কুষ্টিয়া মডেল থানা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad