কার্নিভাল সামনে রেখে রোববার কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে হোমসের সম্মেলন কক্ষে পর্যটন খাতের অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় কুয়াকাটার পর্যটন উন্নয়ন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, বিনোদন ও পর্যটকসেবা নিয়ে আলোচনা হয়।
থাকছে নানা আয়োজনদুই দিনের কার্নিভালে সৈকত ক্যাম্পিং, বিচ ফুটবল, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ উৎসব, পুঁথিপাঠ ও প্রি-ইভেন্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পণ্য, খাবার ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে থাকবে বিশেষ আয়োজন।
কার্নিভাল ঘিরে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকদের আশা, এসব ব্যতিক্রমী কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য কুয়াকাটায় নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর বিচ কার্নিভাল আয়োজনের খবরে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটকের আগমন বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি ফিরবে।
পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য করার তাগিদমতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটাকে শুধু সমুদ্রসৈকত হিসেবে নয়, পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য পর্যটকদের নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসন, বিনোদন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের বিকাশ হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও পর্যটন ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
রয়েছে বড় সম্ভাবনাপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তৃত সমুদ্রসৈকত, একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় কুয়াকাটা। তবে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত বড় আয়োজনের পাশাপাশি উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
সভায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক মো. গনী উল আজম। এ ছাড়া জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, বরিশাল বিভাগীয় ডিআইজি (ট্যুরিস্ট পুলিশ) অর্নিবান চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল মালিক, উদ্যোক্তা ও স্থানীয় অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে এ অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এবারের কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘ নয় বছর পর এই আয়োজন কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পে নতুন গতি আনবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন; কুয়াকাটা পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক