কুমিল্লায় বাজারে নৈরাজ্য, ২১ টাকার সার ৪০ টাকা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ দুপুর
  • ১৫৮৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
কুমল্লার বিভিন্ন উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি কেজি ২৭ টাকার ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকায়। ২১ টাকা কেজির পটাশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা এবং একই দামের ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে ৩৮ টাকায়। এ ছাড়া ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সার, যা আগে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কিনতে হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকায়।

এতে ফসল উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপে পড়েছেন কৃষকেরা। অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কাও বাড়ছে তাঁদের।

সংকটের অজুহাতে বাড়তি দাম

জেলার বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, লালমাই, বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণসহ বিভিন্ন উপজেলার বাজার ঘুরে সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল, সমেশপুর ও সিন্দুরিয়াপাড়া গ্রামের কৃষকেরা জানান, স্থানীয় সাহেবের বাজারের ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ইউরিয়া সার ৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাজারে চিকন দানার ইউরিয়া সারও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয় কৃষক রাব্বি, আনোয়ার মেম্বার, ইকবাল হোসেন, ফরিদ ও নন্দনাথ বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় ফসল ও চারা উৎপাদনে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কমছে লাভের পরিমাণ।

কৃষকদের ভাষ্য, সরকার নির্ধারিত দামে সার চাইলে অনেক ডিলার সংকটের কথা বলেন। কেউ কেউ পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বেশি দাম নেন। ফলে কৃষি উপকরণে সরকারি ভর্তুকির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

বিভিন্ন উপজেলায় একই অভিযোগ

কৃষকদের অভিযোগ, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া ছাড়াও সদর দক্ষিণের বিজয়পুর ও রতনপুর, লালমাইয়ের বাগমারা, ভূশ্চি ও হাজতখোলা, বরুড়ার আমড়াতলী ও খোশবাস এবং চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার, কাইচ্ছুটি ও আমানগন্ডাসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আড়াইওরা ও আলেখারচর এবং পাঁচথুবী ইউনিয়নের বাগবের, গোলাবাড়ি ও রাচিয়া এলাকার কৃষকেরাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কেনার অভিযোগ করেছেন।

পরিবহন ব্যয় বাড়ার দাবি ব্যবসায়ীদের

সারের বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়ে বুড়িচং সদর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও উপজেলার জগৎপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল করিম এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনে দোকানে পৌঁছাতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ছে। এ কারণে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দামে সার কিনতে গিয়ে তাঁদের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হচ্ছে না। এতে কৃষিকাজে লাভ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো ডিলারের সার বিক্রির সুযোগ নেই। প্রতি কেজি সারে এক পয়সাও বেশি নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সারের দাম নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad