চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এখন আসামির পরীক্ষা, যুক্তিতর্ক শুনানি ও রায় ঘোষণার মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
২০০৮ সালে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আটকআদালত সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ১২ নভেম্বর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিক্রয় শাখায় অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন সহকারী ব্যবস্থাপক সৈয়দ সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ছয় হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্যাস কোম্পানির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাইবা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আওরঙ্গজেব বাবুলের কাছ থেকে ৪৮টি আবাসিক গ্যাস সংযোগের টেস্ট রিপোর্ট বা কাজ সমাপ্তির প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে ওই অর্থ দাবি ও গ্রহণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।
বিচার শুরু ২০১০ সালে, সাক্ষী ১৪ জনমামলার তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরের বছর ২৩ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
তবে বিচার শুরু হওয়ার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতেই পেরিয়ে যায় ১৬ বছর পাঁচ মাস নয় দিন। মামলায় মোট সাক্ষী ছিলেন ২০ জন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে বিরতি ও নানা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে।
দ্রুত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদুল করিম জানান, সম্প্রতি তিনি মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। ইতোমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। এরপর মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
তথ্যসূত্র:চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের নথি, আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটরের বক্তব্য।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)