ঘরে টেলিভিশন রাখা ও কেনাবেচা নিয়ে ইসলামের বিধান কী?

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ রাত
  • ৬১২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
নিজের হালাল উপার্জনের টাকায় টেলিভিশন কেনা, ব্যবহার ও বিক্রি করা নিয়ে ইসলামী বিধান ব্যাখ্যা করেছেন মুফতি জাওয়াদ তাহের। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেলিভিশনের ব্যবহার ও বিক্রির ধরন বিবেচনায় এ বিষয়ে বিধান নির্ধারিত হয়।

নিজের হালাল উপার্জনের অর্থ দিয়ে টেলিভিশন কেনা, ঘরে রাখা কিংবা পরে বিক্রি করা শরিয়তসম্মত কি না—এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহেরের বক্তব্য প্রকাশ করেছে দৈনিক যুগান্তর।

তাঁর ব্যাখ্যায়, টেলিভিশনে প্রাণীর ছবি প্রদর্শন এবং প্রচলিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অশ্লীলতা ও অনৈতিক বিষয়বস্তু থাকার কারণে এটি ঘরে রাখা ও কেনাবেচার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান বিবেচনা করা জরুরি।

টেলিভিশন কেনা ও ঘরে রাখা

মুফতি জাওয়াদ তাহেরের বক্তব্য অনুযায়ী, টেলিভিশনে প্রদর্শিত ছবি ও অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুর কারণে এটি ঘরে রাখা এবং এর কেনাবেচা শরিয়তসম্মত নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের টেলিভিশন ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ও হালাল নয়।

তবে টেলিভিশনের ব্যবহার, প্রদর্শিত বিষয়বস্তু এবং বিক্রির উদ্দেশ্য বিবেচনায় এ বিষয়ে বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা রয়েছে। তাই সব ধরনের স্ক্রিন বা প্রদর্শনযন্ত্রের বিধান একইভাবে নির্ধারণ না করে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কেনা টেলিভিশন বিক্রি করতে চাইলে কী করবেন?

প্রকাশিত ফতোয়া অনুযায়ী, কেউ টেলিভিশন কেনার পর তা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিলে অন্য কাউকে বিক্রি করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ, ক্রেতা যদি সেটি নিষিদ্ধ কাজে ব্যবহার করেন, তাহলে বিক্রেতার পক্ষ থেকে পাপের কাজে সহযোগিতার প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ফতোয়ায় কয়েকটি বিকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—

১. যন্ত্রাংশ আলাদা করা: টেলিভিশনটি অন্যের কাছে বিক্রি না করে নষ্ট করে দেওয়া বা যন্ত্রাংশ আলাদা করার কথা বলা হয়েছে। যেসব যন্ত্রাংশ বৈধ কাজে ব্যবহার করা যায়, সেগুলো আলাদাভাবে বিক্রির অবকাশ রয়েছে বলে ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২. আগের বিক্রেতার কাছে ফেরত দেওয়া: একান্ত অপারগ পরিস্থিতিতে যাঁর কাছ থেকে টেলিভিশনটি কেনা হয়েছিল, তাঁর কাছে ক্রয়মূল্যে বা তার চেয়ে কম দামে ফেরত দেওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়েছে।

৩. অমুসলিমের কাছে বিক্রি: ফতোয়াটিতে ক্রয়মূল্যে অমুসলিমের কাছে বিক্রির অবকাশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ফিকহি মতভেদ রয়েছে; তাই একে সর্বসম্মত বিধান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

৪. বৈধ কাজে ব্যবহারের জন্য মনিটর বিক্রি: কোনো স্ক্রিন বা মনিটর বিমানবন্দর, স্টেশন কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও সময়সূচি প্রদর্শনের মতো বৈধ কাজে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করা হলে, ফতোয়া অনুযায়ী তা জায়েজ হতে পারে।

বিক্রির টাকা ব্যবহারের বিধান

প্রকাশিত ফতোয়ায় বলা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে টেলিভিশন বিক্রি করা নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হবে, সেসব ক্ষেত্রে বিক্রির অর্থ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে না; বরং সওয়াবের নিয়ত ছাড়া তা দান করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ক্রয়মূল্যের অতিরিক্ত মুনাফার অর্থের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যেসব ক্ষেত্রে বিক্রি বৈধ বলে বিবেচিত হবে, সেসব ক্ষেত্রে প্রাপ্ত অর্থ নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।

তবে এসব বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে টেলিভিশনের ধরন, ব্যবহার, বিক্রির উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ফিকহি মতামত বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad