আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে পাল্টা আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। এর ফলে ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
নিজের আশঙ্কার পক্ষে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে পারসি বলেন, ওই নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন, যার কোনো ভিত্তি ছিল না। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি তাঁর সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়।
পারসির মতে, ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়টি ছিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বেপরোয়া সময়গুলোর একটি। ওই সময়ে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে চাপে পড়বেন ট্রাম্পত্রিতা পারসি মনে করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও আর্থিক বাধা তৈরি হতে পারে।
কারণ, কংগ্রেসের হাতে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় অনুমোদনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে যুদ্ধের অর্থায়ন নিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন। এমনকি যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়ার উদ্যোগও নিতে পারেন।
ইসরাইলের চাপ বাড়ার আশঙ্কাপারসির আশঙ্কা, নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে ইসরাইলি সরকারও ট্রাম্পের ওপর ইরানে নতুন করে হামলার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষ করে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে, অর্থাৎ জানুয়ারির আগেই ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানে তৃতীয় দফায় হামলার চাপ আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই প্রভাব ফেলবে না; ইরান যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকারে পারসি বলেন, বিভিন্ন দিক বিবেচনায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা; কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসির সাক্ষাৎকার।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক