নতুন ভোটার নিবন্ধন থেকে এনআইডি সংশোধন, জানুন আবেদনপদ্ধতি

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ দুপুর
  • ৩৮৮২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এখন নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নথি। ভোটার নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা নিতে এটি প্রয়োজন হয়। নতুন ভোটার হওয়া, পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন, হারানো কার্ড পুনরায় সংগ্রহ কিংবা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হয়।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে এসব সেবার বেশির ভাগ আবেদন অনলাইনে করা যায়। তবে সেবার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আলাদা।

১৬ বছর হলেই এনআইডির জন্য আবেদন

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকেরা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরা এনআইডি নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ভোট দিতে পারবেন না।

নতুন ভোটার হতে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে নতুন নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। জন্মতারিখ, জন্মনিবন্ধন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে।

এরপর পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনপত্র প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস ও স্বাক্ষর নেওয়া হতে পারে।

নতুন ভোটার নিবন্ধনে সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—

অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি;

জন্মনিবন্ধন সনদ;

এসএসসি বা সমমানের সনদ, থাকলে;

বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;

ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল, হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ বা অনুরূপ নথি;

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সনদ ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র।

বিবাহিত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি এবং বিবাহসংক্রান্ত নথিও প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত অবস্থার ভিত্তিতে কাগজপত্রের চাহিদা ভিন্ন হতে পারে।

এনআইডির নাম ও জন্মতারিখ সংশোধন

জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ কিংবা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে ভুলের ধরন অনুযায়ী প্রমাণপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আলাদা।

নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ গ্রহণযোগ্য প্রামাণিক নথি গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করার আগে এনআইডিতে থাকা ভুল তথ্য এবং সংশোধনের পর যে তথ্য যুক্ত করতে চান, তা সংশ্লিষ্ট নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।

নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দেওয়া জরুরি। সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফি আবেদন করার সময় পোর্টালে দেখে নিতে হবে।

জন্মতারিখ সংশোধনে সতর্কতা

এনআইডিতে জন্মতারিখ ভুল থাকলে সংশোধনের পক্ষে যথাযথ প্রমাণপত্র দিতে হয়। জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত নথিতে তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

আবেদনে বর্তমান ভুল তথ্য ও প্রস্তাবিত সঠিক তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। যাচাইয়ের প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে।

এনআইডি হারালে পুনরায় সংগ্রহ

জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে পুনঃইস্যুর জন্য আবেদন করা যায়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানানো হয়, হারানো এনআইডি পুনরায় সংগ্রহের আবেদনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।

এ ক্ষেত্রে পুরোনো এনআইডি নম্বর জানা থাকলে তা দিয়ে এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে পুনঃইস্যুর আবেদন করতে হবে। পোর্টালে প্রদর্শিত নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদন নম্বর ও রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে অনলাইন থেকে পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহের সুযোগ পাওয়া যায়।

ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তন

জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। এ ধরনের সেবায় নতুন ছবি ও স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা জেনে নেওয়া উচিত।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের নিয়ম

স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হয়। এ জন্য নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য ফরম-১৩ রয়েছে। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন জমার পদ্ধতি পোর্টাল অথবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

অনলাইনে এনআইডির কপি সংগ্রহ

জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি পেতে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ সম্পন্ন করে পোর্টালে কপি ডাউনলোডের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর, পাসওয়ার্ড ও যাচাইকরণ কোডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।

আবেদন নিষ্পত্তিতে কত দিন লাগে?

এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময় সব ক্ষেত্রে এক নয়। সংশোধনের ধরন, জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সময় কম-বেশি হতে পারে। বিশেষ করে নাম ও জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হতে পারে।

তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন নম্বর দিয়ে পোর্টালে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

কোথায় পাবেন এনআইডি সেবা?

জাতীয় পরিচয়পত্রের নতুন নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন, পুনঃইস্যু ও অন্যান্য সেবার জন্য নির্বাচন কমিশনের সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করা যাবে।

এনআইডি সেবা পোর্টাল: https://services.nidw.gov.bd/

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট: https://ecs.gov.bd/

হেল্পলাইন: ১০৫




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad