রোববার (২ নভেম্বর) হিমাচল প্রদেশের শিমলায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও ও নৈরাজ্য দূর করো’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণ করেন হিমন্ত।
বক্তব্যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিদের ভারতে কোনো জায়গা নেই। রাহুল গান্ধীর বাংলাদেশিদের প্রতি এত দরদ থাকলে তাঁকে বাংলাদেশে গিয়ে নির্বাচন করার পরামর্শ দেন তিনি।
রাহুলকে উদ্দেশ করে হিমন্ত বলেন, ‘আপনি বরং আসামে আসুন। আমি আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব।’
বাংলাদেশের প্রতি রাহুলের কথিত সহানুভূতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আসামে এলে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে রাহুলের জন্য প্যারাসুটে অবতরণের ব্যবস্থা করবেন।
কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরা নিয়েও কটাক্ষ
কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, কংগ্রেস আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। তিনি বলেন, ভারতে জনগণের ভোটেই সরকার পরিবর্তন হয়। ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রের পাশাপাশি ব্যালট পেপারেও কংগ্রেস পরাজিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।
রাহুলের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ
এর আগে রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সমাবেশ করে বিরোধী জোট। সেখানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন রাহুল গান্ধী।
বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনারকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তাঁকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা অহিংসাবাদী। নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ আমাদের শত্রু নন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে-ই হোন না কেন, সংবিধানের চেয়ে বড় কেউ নন।’
রাহুলের এই বক্তব্যের পর বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে বিতর্কিত মন্তব্য করেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক