রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকের আখড়া উচ্ছেদের পর এবার ২৬ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেললাইনের পাশের দীর্ঘদিনের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়ক নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, নতুন সড়ক চালু হলে স্থানীয়দের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল কার্যক্রমও জোরদার করা সম্ভব হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঘুণ্টিঘর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ইশরাক হোসেন জানান, রেললাইনের পাশে রেলের জমি অবৈধভাবে দখল করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব স্থানে মাদক সেবন ও কেনাবেচাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলত। ইতোমধ্যে শ্যামপুর অংশে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহের উচ্ছেদ কার্যক্রমে ২৬ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা প্রায় প্রস্তুত করা হয়েছে। এখনো কয়েকটি স্থাপনা সরানো বাকি রয়েছে। তবে এসব স্থাপনার অধিকাংশই অস্থায়ী ও অবৈধভাবে নির্মিত।
জরুরি সেবা ও নিরাপত্তায় বাড়বে সুবিধানতুন সড়ক নির্মিত হলে এলাকার বিভিন্ন মহল্লার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে। সাধারণ মানুষের চলাচলের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও সহজ হবে বলে জানান সংসদ সদস্য।
সড়কের পাশাপাশি পুরো এলাকায় পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল সহজ হবে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান চলবেইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ গেন্ডারিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এ উদ্যোগের সুফল পাবেন। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের বিস্তার ঘটছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাসাবাড়িতেও।
নিজের নির্বাচনি এলাকার যেসব স্থানে মাদক কারবার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে নির্মূল করা হবে বলে জানান তিনি। এ কাজে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।
এলাকায় পুলিশের টহলের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকায় আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে নিয়মিত টহল দেওয়া কঠিন ছিল। নতুন সড়ক নির্মিত হলে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হবে বলে আশা করছেন তিনি।
মাদকের বিরুদ্ধে চলমান উদ্যোগ শুধু উচ্ছেদ অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকবে না উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, মাদক নির্মূলে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।
সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে রেল প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তিনি।
এলাকা পরিদর্শনের সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, পুলিশের ওয়ারী জোনের উপকমিশনার, গেন্ডারিয়া ও শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক