গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক মামলা সাবেক ডিআইজি আনিসুরের বিরুদ্ধে

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪২ বিকাল
  • ২৮৭৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) ও রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনিসুর রহমানে
যশোরে এসপি থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ; ক্রসফায়ার, গুম ও মিথ্যা মামলার ঘটনায় অন্তত আট মামলা

যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) ও রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে খুন, গুম, ক্রসফায়ার, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত আটটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি তাঁকে সরকারি চাকরি থেকেও বরখাস্ত করেছে সরকার।

আনিসুর রহমান ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত যশোরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের একটি অংশের কাছে তিনি ‘সন্ত্রাসী এসপি’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যুগান্তর।

গত ৩১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আনিসুর রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই তারিখ থেকেই তাঁর বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে চার মামলা

যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনিসুর রহমান যশোরের এসপি থাকাকালে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারে হত্যা ও গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট মনিরামপুরের জয়পুর গ্রামের আবু সাঈদকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়। এতে আনিসুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। একই গ্রামের পল্লিচিকিৎসক বজলুর রহমান ও আনিসুর রহমানকে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যার অভিযোগেও একই বছরের ২১ আগস্ট আরেকটি মামলা হয়। মনিরামপুরের তাহেরপুরের ইউসুফ আলীকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগেও মামলা রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহীদ ইকবাল জানান, চারটি মামলায় আনিসুর রহমানসহ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে।

দুই ছাত্রশিবির নেতাকে গুলির অভিযোগ

২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের সময় যশোরের চৌগাছা থানা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে পুলিশ গুলি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় আনিসুর রহমানসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রুহুল আমিন জানান, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেন।

তিনজনকে গুমের অভিযোগ

২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল পিরোজপুরের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাইদুর রহমান ও শাওন নামে দুই যুবককে যশোর পৌর পার্ক থেকে তুলে নিয়ে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বিএনপির কর্মী মাসুমকে যশোর শহরের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুম করার অভিযোগেও আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার মামলায় নয় বছর পর খালাস

জঙ্গি দমনের নামে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক দেখিয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় চারটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর পর জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তানজির আহমেদ, মো. মহিউদ্দিন, মেহেদী হাসান পাশা ও সাদ্দাম ইয়াসির সজল।

২০১৫ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাশাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ১১ দিন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় চোখ বেঁধে নির্যাতন এবং জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর আদালত তাঁকে মামলা থেকে খালাস দেন।

মেহেদীর আইনজীবী মাহমুদ কবীর কাকন বলেন, আসামিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য তাঁরা সব ধরনের চেষ্টা করেছেন। আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি খালাস পেয়েছেন।

মানবাধিকারকর্মীকে হয়রানির অভিযোগ

যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনিসুর রহমানের নির্দেশে রাতে যশোর শহরের গাড়িখানা রোডের প্রায় ৪০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে পুলিশ। এ সময় লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ করায় ২০১৭ সালে রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিককে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁর ছেলেকেও মাদকের মামলায় গ্রেপ্তারের দাবি করেন তিনি।

বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের অভিযোগ, আনিসুর রহমান ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার করেছিলেন এবং তাঁর দায়িত্বকালে যশোরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তথ্যসূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরখাস্তসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের তথ্যের জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad