যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে এ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
ইসতাক আহমেদ তারেক ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সন্তান। চীন থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্নাতক সম্পন্ন করে ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ শহরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘পাঠগৃহ ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি শিক্ষা, পাঠাভ্যাস ও মানবিক সহায়তামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, পাঠচক্র, বিনা মূল্যে বই পড়ার সুযোগ, এতিমদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, পথশিশুদের কল্যাণ, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
পাঠাভ্যাস ও দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ
সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করছেন ইসতাক। ২০২৪ সালে ময়মনসিংহের গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘পাঠগৃহ ক্যাফে’। এটিকে ময়মনসিংহের প্রথম রিডিং ক্যাফে হিসেবে পরিচিত করা হয়েছে। এখানে কফি পানের পাশাপাশি বই পড়ার সুযোগ রয়েছে। পাঠকেরা নিবন্ধন করে বই বাসায় নিয়েও পড়তে পারেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে চালু হয় ‘পাঠগৃহ একাডেমি’। প্রতিষ্ঠানটিতে চীনা ভাষা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে চলা
উদ্যোগের শুরুর দিকের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ইসতাক আহমেদ তারেক বলেন, নতুন ও প্রচলিত ধারার বাইরে কোনো উদ্যোগ শুরু করা সহজ নয়। প্রথাগত চাকরির বাইরে সমাজসেবা এবং পাঠগৃহ ক্যাফের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়ায় শুরুতে পরিবারেও দ্বিধা ও শঙ্কা ছিল।
তাঁর ভাষ্য, তরুণদের বইমুখী করা এবং শহরের প্রচলিত আড্ডার বিকল্প হিসেবে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগকে প্রথম দিকে অনেকে গুরুত্ব দেননি। কেউ কেউ একে সাময়িক আবেগ বলেও মনে করেছিলেন। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাব সত্ত্বেও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি। পরে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতাও পেয়েছেন।
পুরস্কারকে দেখছেন সম্মিলিত অর্জন হিসেবে
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ইসতাক বলেন, জাতীয় পর্যায়ের এ সম্মাননা তাঁর জীবনের অন্যতম আনন্দ ও গৌরবের মুহূর্ত। তবে এটিকে তিনি একক অর্জন হিসেবে দেখতে চান না। তাঁর মতে, এ স্বীকৃতি ময়মনসিংহের বইপ্রেমী মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী দল ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহে পাঠাভ্যাস পুনরুজ্জীবিত করা, তরুণদের দক্ষ করে তোলা এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এ পুরস্কার তাঁর দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার বিস্তার, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আলোকিত সমাজ গঠনে কাজ করতে চান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে ইসতাক বলেন, শুধু নিজের কথা না ভেবে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে প্রত্যেকের কিছু সময় দেওয়া উচিত। বড় পরিবর্তনের জন্য সব সময় বড় বাজেটের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন সদিচ্ছা ও সততা। তিনি তরুণদের বই পড়া, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। ডিজিটাল মাধ্যমকে শুধু বিনোদনের পরিবর্তে জ্ঞানার্জন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানোর পরামর্শও দেন।
ইসতাকের এ অর্জনে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান। তিনি বলেন, ইসতাকের সাফল্যে উপজেলা প্রশাসন আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁর মতো আরও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি হবেন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক