তাহসিন হত্যা: সরাসরি গুলি চালায় ৮ জন, অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে ৩ জন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ দুপুর
  • ৪৯৯১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৭) হত্যাকাণ্ডে ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে আটজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে জানা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে তাহসিনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি কালো নোহা গাড়িতে করে অস্ত্রধারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চায়ের দোকানে বসে থাকা তাহসিনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। হত্যার পর ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যান তাঁরা।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

অভিযোগপত্রে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে আটজনের বিরুদ্ধে। তাঁরা হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মো. হাসান, মোহাম্মদ, মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, মো. হেলাল, মো. ইলিয়াছ হোসেন অপু, মো. বোরহান এবং মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন।

পুলিশের ভাষ্য, অভিযুক্তরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী। ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে বড় সাজ্জাদ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কালো নোহা গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে যান আসামিরা। গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁরা তাহসিনের চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে যান। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ছোড়া হয়। তাঁদের কয়েকজন সরাসরি গুলি চালান, অন্যরা অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।

অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ তিনজনের বিরুদ্ধে

সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আটজনের বাইরে আরও তিনজনকে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. এমরান, মো. সাইফুল ইসলাম ও শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী ওরফে রিহান শিহাব।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন এই তিনজন। তাঁরা মূল আসামিদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে প্ররোচনা, ইন্ধন ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বৃহস্পতিবার বলেন, তদন্তে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাঁদের নামেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় শটগানের গুলির আলামত

তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অপর্ণা দাশ ও মাহরিন ইসলাম তাহসিনের ময়নাতদন্ত করেন।

ঘটনাস্থল থেকে চারটি ফায়ার করা কার্তুজ, ১০টি ধাতব পিলেট ও ইনার ওয়াড উদ্ধার করা হয়। সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফরেনসিক ব্যালিস্টিক ল্যাবে এসব আলামত পরীক্ষা করা হয়।

ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ শাকেরুল আলমের মতামতে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা চারটি কার্তুজ ১২ বোরের শটগান অথবা একই ধরনের স্মুথ বোর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে। পিলেট ও ইনার ওয়াডও শটগানজাতীয় অস্ত্রের প্রজেক্টাইল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ করা কালো নোহা গাড়ি, তাহসিনের রক্তমাখা পোশাক, স্যান্ডেল, চশমা, ঘটনাস্থলের রক্তের নমুনা এবং হামলাকারীদের গাড়িতে ওঠা-নামার ভিডিও ফুটেজসংবলিত একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে এসব সাক্ষ্য, আলামত, গাড়ির ভিডিও ফুটেজ, ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad