নারী ও কিশোরীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে মেয়েদের দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সংগঠনটি।
এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের ২৪তম আঞ্চলিক পরিষদ অধিবেশন-২০২৬।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজশাহী গাইড হাউসে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী অঞ্চলের উদ্যোগে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনটির জাতীয় কমিশনার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গ্রেড-১ কর্মকর্তা কাজী জেবুন্নেছা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) আক্তার জাহান সাথী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার সিরাজুম মুনিরা এবং রাজশাহী গাইড জেলার কমিশনার সাবরীনা শারমিন বনি।
দুই পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং দ্বিতীয় পর্বে পরিষদের মূল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজশাহী অঞ্চলের আটটি জেলা থেকে গাইডার, কমিশনার, সদস্য, প্রশিক্ষক ও অফিস স্টাফসহ প্রায় ৪০০ জন অংশ নেন।
গার্ল গাইডস একটি স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য মেয়েদের ব্যক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটানো। এ সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোরী ও তরুণীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা মোকাবিলা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আত্মনির্ভরশীলতার শিক্ষা পায়।
এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সমাজসেবা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বদানে সক্ষম করে গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে একজন গাইড ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মানসিকতা অর্জন করে।
আঞ্চলিক পরিষদ অধিবেশনে সংগঠনের চলমান কার্যক্রম, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে গাইডিং কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক