আলাদিনের চেরাগ নাকি আত্মসাৎ: ফিরোজের রহস্যময় সাম্রাজ্য

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ বিকাল
  • ২৮১৪৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg


সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকার পরিচিত মুখ ও ‘হাটিকুমরুল হেলথ কেয়ার’ হাসপাতালের পরিচালক ফিরোজ আহমেদের রাতারাতি বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মহলে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ চাকরিজীবী থেকে হুট করে কোটি কোটি টাকার জমির মালিক হওয়া, ৬ তলা বিশিষ্ট আলিশান ভবন নির্মাণ এবং বিলাসবহুল গাড়িতে চলাচলের নেপথ্য রহস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।


​অনুসন্ধানে জানা যায়, ফিরোজ আহমেদ আগে ‘মা জেনারেল হাসপাতাল’-এ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে প্রথম স্ত্রীর বড় ভাই নুরুল ইসলাম পরিচালক ছিলেন তখন ‘মা জেনারেল হাসপাতাল’ তখন ফিরোজ তার সঙ্গে কাজ করতেন।


অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে তিনি হাসপাতালটির বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলে এবং স্থানীয়ভাবে একাধিক বিচার-শালিসও অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকেই বের হয়ে তিনি রাতারাতি গড়ে তোলেন বিশাল বহুতল ভবন ও নতুন ব্যবসা।


​‘মা জেনারেল হাসপাতাল’ ছাড়ার পর গত কয়েক বছরে ফিরোজের দৃশ্যমান সম্পদে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসে। বর্তমানে হাটিকুমরুল এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের একাধিক জমি, তার ওপর নির্মিত ৬ তলা হাসপাতাল ভবন এবং নিজের নামে নিবন্ধিত প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এত অল্প সময়ে কীভাবে এমন সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠলো—তা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।



অর্থনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসককে বিয়ে করা এবং পরবর্তীতে নিজস্ব আর্থিক ও প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।



স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাটিকুমরুল হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রোগীদের জিম্মি করে অসাধু বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। হাসপাতালে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে মাত্রাতিরিক্ত ফি নেওয়া।


দূর-দূরান্ত থেকে আসা সরল রোগীদের ফাঁদে ফেলতে সক্রিয় দালাল চক্র লালন-পালন করা।

​প্যাথলজিতে কাল্পনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করে রোগীদের আর্থিক শোষণ করছেন এবং হাসপাতালটিতে নিয়মিত ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।


​

উত্থাপিত অভিযোগ ও বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে ফিরোজ আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফোনে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন কথা বলব না, পরে তথ্য দেব। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


​স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই অবৈধ সাম্রাজ্য, আর্থিক আত্মসাৎ ও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সিরাজগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad