ব্যানার বিতর্ক ও ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন ঘিরে উত্তেজনা, ডিসিকে অপসারণে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ দুপুর
  • ১০৬৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা এবং এক বক্তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আল মামুন মিয়াকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়েছে জেলা ছাত্রদল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ শুভ ও সাধারণ সম্পাদক কে এম শাকিল হোসেনের নির্দেশনায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

এর আগে শনিবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীও মঞ্চে উঠতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত একটি পোস্টার লাগানো হলে প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ব্যানারটি জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে জিয়া পরিষদের পৌর সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বক্তব্য দেওয়ার সময় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেন। এ বক্তব্যের পর সভাস্থলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ শুভ ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান এবং ওই বক্তাকে সরিয়ে দেন।

ঘটনার পর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, ১৯ বছর পর তাঁরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছেন। জিয়াউর রহমানকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাঁর ছবি না থাকা দলের নেতা-কর্মীদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অন্যদিকে, ব্যানার তৈরিতে ইন্টারনেট থেকে ছবি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া। অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলা ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটামকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad