জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে আরও টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করে গড়ে তুলতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব পরিবেশ ও জলবায়ু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সংকট এখন সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকায় গভীর প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আজ বিশ্ববাসীর জন্য কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার আহ্বান বহন করছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র। জলবায়ুজনিত লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমন্বিত নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে বাণীতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ