ইলিশ রক্ষায় কঠোর বার্তা: ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযানের নির্দেশ

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ দুপুর
  • ১৫৮৫৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি এ ধরনের জাল উৎপাদন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীতে মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬ : মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশ সংরক্ষণে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার এখনও উদ্বেগজনক। শুধু মাছ ধরার সময় জাল জব্দ করলেই হবে না, এসব জালের উৎপাদনও বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা জাল তৈরির কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং জেলেদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হলেও এ সময় জেলেদের জীবিকার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, দেশের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। দেশের ১১টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে জেলেদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

ইলিশের অভিবাসন পথ (মাইগ্রেটরি রুট) সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে সরকার খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

জেলেদের জন্য বিশেষ কার্ড সুবিধার বিষয়েও তিনি কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, কৃষি কার্ডের আওতায় জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে অনেক জেলে এ সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। এ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইলিশ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad