বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সংগীতের সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরেন প্রধান অতিথি মো. রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, “সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে, তা যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন ইতিহাসে তার প্রভাব আমরা দেখি। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও অধিকার আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫২, ৬৯, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০ এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে সংগীত মানুষের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
শিল্পকলা একাডেমির আয়োজন
বিশ্ব সংগীত দিবসকে কেন্দ্র করে ২১ ও ২২ জুন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
সংগীত পরিবেশনা
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা সমবেতভাবে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর একে একে একক সংগীত পরিবেশন করেন—
সুকন্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, মুন্নি কাদের, ডলি মন্ডল, নওসীন তাবাসসুম স্মরণ, পিন্টু ঘোষ, রাকা পপি, শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি, দেবলীনা সুর, এস এম শামীম আক্তারসহ আরও অনেকে।
এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও মোসুমি মৌ। লোকসংগীত, সমবেত সংগীত এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনাও ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
বিদেশি দূতাবাস থেকে আগত শিল্পীরাও একক সংগীত পরিবেশন করেন। সবশেষে এসেইস, সর্বনাম ও জাসাস-এর ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী বার্তা
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে সংগীতের বহুমাত্রিক রূপ ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয় বলে জানান আয়োজকরা।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ