জাতীয় সংসদে কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা ও তার রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এ ঘটনায় পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন।
বুধবার সংসদের অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পবিত্র কোরআনের সূরা ইবরাহিমের একটি আয়াত তেলাওয়াত করেন। আয়াতটির বাংলা অর্থ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেব; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে আমার শাস্তি অবশ্যই কঠিন।’
এরপর তিনি বাজেট, উন্নয়ন বরাদ্দ এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করেন না।
তবে এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি বলেন, কোরআনের আয়াতকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে এভাবে সম্পৃক্ত করা হলে তার ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়। তার মতে, আয়াতটির মর্মার্থকে রাজনৈতিক প্রশংসা বা সমালোচনার সঙ্গে যুক্ত করা সমীচীন নয়।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ দেওয়া উচিত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য প্রসঙ্গক্রমে আয়াতটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর মাধ্যমে কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। সংসদে কেউ যদি ইসলাম বা ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, তাহলে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। তবে ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাও সমানভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত।”
এদিকে কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা ও তার রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল বিষয়টিকে ধর্মীয় বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে, আবার কেউ কেউ এটিকে সংসদীয় বিতর্কের স্বাভাবিক অংশ বলেও অভিহিত করছেন।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ