চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী জুলাই মাসজুড়ে দেশব্যাপী পদযাত্রার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাষ্ট্র সংস্কারে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এনসিপির নেতারা জানান, সারা দেশে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এসব দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলাই পদযাত্রার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ড ও কথিত ‘পুশইন’ প্রচেষ্টার প্রতিবাদে ‘সীমান্ত মার্চ’ কর্মসূচিও বিবেচনায় রয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শীর্ষক কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার আরও বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকে দেশের প্রায় ৫০টি স্থানে পথসভা আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। পাশাপাশি সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে আরও গতিশীল করা এবং তরুণ প্রজন্মসহ নতুন সমর্থকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেও পদযাত্রার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, জুলাইজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে পদযাত্রাই হবে সবচেয়ে বড় আয়োজন। তাদের দাবি, রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবিকে সামনে এনে জনগণকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে তাদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নে সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, “জুলাইয়ের চেতনা পুনর্জাগ্রত করে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করতে চাই।”
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি। দলটির এক যুগ্ম সদস্য সচিব অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে ভারতের সমর্থন ছিল প্রকাশ্য। পাশাপাশি সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি নতুন করে ‘পুশইন’ প্রচেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের আদলে ‘সীমান্ত মার্চ’ কর্মসূচির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার