দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’-এর জাতীয় চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সোমবার। রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই অনুষ্ঠানে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করবেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)-এর আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রতিপাদ্য— “মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”
জাতীয় পর্যায়ে জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও স্টার্টআপ আইডিয়া উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচিতদের ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ দেওয়া হবে। নির্বাচিত শিক্ষকরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা, একটি সনদপত্র এবং সম্মাননা। অন্যদিকে ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’-এর জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পাবেন ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচিতে দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশ নেন। প্রতিটি দলে ছিলেন তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক। গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগর শিক্ষা থানায় অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে ৮ হাজার ২৯টি দল, ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
পরে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল গত ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা দলগুলো এখন জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করছে।
এরই মধ্যে রোববার থেকে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন শুরু হয়েছে। প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
অন্যদিকে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দেশের সবুজায়ন উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছে সরকার। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর অন্তত একটি গাছ লাগানোর উদ্যোগেও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক