জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি মসজিদকে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। একই সঙ্গে তিনি জাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু এবং সুদনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করতে হলে রাষ্ট্রীয় নীতিতেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। তাঁর ভাষায়, “মদিনাভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার আদলে সুদমুক্ত অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জাকাতকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
প্রস্তাবিত বাজেটে ‘জাকাত’ শব্দের উল্লেখ না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মুজিবুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতায় নানা বিষয় স্থান পেলেও জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি নিয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে জাকাতকে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ সময় অর্থমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা বিবেচনায় নিলে বাজেটে জাকাতের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধর্মীয় উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, বাজেটেও ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো প্রতিফলিত হওয়া উচিত ছিল।
রাষ্ট্রের ঋণনির্ভরতা নিয়েও সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য ঋণ নেওয়া যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত ঋণের বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, দেশের নিজস্ব সম্পদ, উৎপাদন ও রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতি পরিচালনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মুজিবুর রহমান আরও বলেন, টেকসই ও আত্মনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং ঋণনির্ভরতার পরিবর্তে স্বনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংবাদপত্র-উপযোগী, অনুসন্ধানধর্মী বা প্রথম পাতার লিড রিপোর্টের আদলে সম্পাদনা করে দিতে পারি।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ