খাদ্যনিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ দুপুর
  • ১৮৯৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ ইতিবাচক। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থায়ন আরও গতিশীল হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিজের কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গ্রামীণ কৃষিঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়। সে সময় কৃষকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, পাওয়ার টিলারের ব্যবহার, খাল খনন এবং চাল রপ্তানির মতো উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় তা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ হলেও তা ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় এ খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

রিজভীর মতে, জাতীয় বাজেটের আকার প্রায় ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে কৃষি খাতের বরাদ্দ বাড়েনি। সরকারের নির্ধারিত উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে কৃষিতে আরও বিনিয়োগ, কার্যকর তদারকি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য।

সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন নেওয়া হচ্ছে। কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং অতিরিক্ত উৎপাদন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

তিনি কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বের হওয়া দক্ষ কৃষিবিদদের মেধার যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আলু, ফল ও সবজিসহ কৃষিপণ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি দেশে বিস্তারে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

রিজভী বলেন, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো পণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এজন্য গবেষণা, সম্প্রসারণ কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকাশ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ভারী শিল্পের কাঁচামালে সীমাবদ্ধতা থাকলেও কৃষিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় শিল্পভিত্তি। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে এসব দেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশও সেই পথ অনুসরণ করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষি খাত দুর্বল হয়ে পড়লে খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে অ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই. মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad