আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই আয়ভিত্তিক অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাটি দেশটির ‘অভিবাসন ও আশ্রয় আইন’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি যুক্তি বনাম মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে বলেন:
"আশ্রয় সহায়তা পাওয়া একটি অধিকার, তবে এটি একই সঙ্গে একটি দায়িত্বও। মানুষ যখন আয় করতে সক্ষম হবে এবং ব্রিটিশ জনগণের উদারতার প্রতিদান দেওয়ার সামর্থ্য অর্জন করবে, তখন আমরা তাদের কাছ থেকে সেই অবদান প্রত্যাশা করি।"
বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তায় বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হওয়ায় তীব্র চাপের মুখে রয়েছে ব্রিটিশ সরকার। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এই ব্যবস্থাকে ‘শিক্ষা ঋণ’ (Student Loan) ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলেও বিভিন্ন মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থা এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ—যুদ্ধ, নির্যাতন ও দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ওপর এটি কার্যত অতিরিক্ত কর আরোপের শামিল।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেনঅভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প থেকে সরকারের প্রকৃত আয় খুবই সীমিত হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন জানান, তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী সফল আশ্রয়প্রার্থীদের বড় অংশই পাঁচ বছর পরও খুব বেশি আয় করতে পারেন না। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান বলছে, শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার ৫ বছর পর মাত্র ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষের বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ৩২ লাখ টাকা) ওপরে থাকে, যা যুক্তরাজ্যের জাতীয় জীবিকা নির্বাহযোগ্য ন্যূনতম মজুরির (বছরে প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড) চেয়েও কম।
ম্যাডেলিন সাম্পশন আরও সতর্ক করে বলেন, এই নিয়মের ফলে শরণার্থীরা কাজ খুঁজে নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। কারণ কাজ করলে বেশি কর বা অর্থ পরিশোধ করতে হবে—এমন আশঙ্কায় অনেকে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন, কিংবা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র এড়াতে বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে পারেন।
অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপপ্রস্তাবিত এই নতুন ‘অভিবাসন ও আশ্রয় বিলে’ আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা রয়েছে:
বয়স নির্ধারণ: অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে। মানবাধিকার সনদের প্রয়োগ: ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮ (যা অভিবাসন ও বহিষ্কার-সংক্রান্ত মামলা দেখভাল করে) কীভাবে প্রয়োগ হবে, তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকবে। আধুনিক দাসত্ব আইন সংশোধন: দেরিতে আইনি দাবি উপস্থাপনের প্রবণতা বন্ধ করতে আধুনিক দাসত্ব-সংক্রান্ত আইনি কাঠামোও সংশোধন করা হবে।
হোম অফিসের একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে জানিয়েছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের ঠিক কত টাকা আয় হলে এই অর্থ পরিশোধ শুরু করতে হবে (আয়সীমা বা থ্রেশহোল্ড), তা দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। এসব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রকৃত ব্যয় বা লাভ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়োজন অনুসারে এই ১০ হাজার পাউন্ডের পরিমাণ পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখবেন।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক