মৃত মাকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগানে কষ্ট পেয়েছেন মোদি, তবু আন্দোলনকারীদের ক্ষমার আহ্বান

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫ দুপুর
  • ২৮৬৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় গভীর কষ্ট প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এ ঘটনার পরও তিনি প্রতিশোধ বা কঠোর শাস্তির পরিবর্তে সংযম, ক্ষমাশীলতা এবং বিভ্রান্ত তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, গালিগালাজ কখনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, ভুল পথে পরিচালিত তরুণদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাদের বোঝানো এবং সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই সমাজের দায়িত্ব।

গত ২৩ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যন্তর-মন্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় স্লোগান দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “যন্তর-মন্তরে যা ঘটেছে, তা পুরো দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিভ্রান্ত তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাকে তো বটেই, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালি দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, তরুণ বয়সে মানুষ ভুল করতেই পারে এবং সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। সমাজে এ ঘটনায় ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও তরুণদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ না করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মোদি বলেন, “এখন সময় এই সন্তানদের বুকে টেনে নিয়ে সঠিক পথ দেখানোর। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া কিংবা হয়রানি করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা করে দিতে চান এবং সমাজের প্রতিও একই মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আসুন, বিভ্রান্ত তরুণদের সঠিক পথ দেখাই এবং সবাই মিলে ভারতের জন্য কাজ করি।”

এদিকে, এ ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর বিরুদ্ধে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে পুলিশ স্টেশনে ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ (শান্তি ভঙ্গের উসকানি), ৩৫৩(১) (জনপরিসরে উসকানিমূলক মন্তব্য) এবং ৩৫৬(১) (মানহানি) ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কাকরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস ব্যবহৃত ভাষার নিন্দা জানালেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অপরাধমূলক আইন প্রয়োগের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আপত্তিকর বা অবমাননাকর বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করা যেতে পারে, তবে রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমনে রাষ্ট্রীয় অপরাধমূলক আইন বা পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক।

সূত্র: এনডিটিভি




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad