এক পরিবারের দখলে তিন আশ্রয়ণ ঘর! মোংলায় সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৫ বিকাল
  • ১২৬২৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের নারকেলতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারি ঘর বরাদ্দকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একই পরিবারের তিন সদস্যের নামে তিনটি সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একই পরিবারের সদস্য কাকলি, মর্জিনা ও তাদের ভাই কবিরের নামে পৃথক তিনটি সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাদের স্থায়ী বাড়ি সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন অনেক পরিবার এখনও সরকারি আশ্রয়ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা যাচাইয়ের দাবি জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বরাদ্দপ্রাপ্তদের একজন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় তার নামে বরাদ্দকৃত ঘরে গত সাড়ে তিন বছর ধরে একটি অসহায় পরিবার বসবাস করে আসছে। ওই পরিবার নিজ উদ্যোগে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে, সন্তানদের স্থানীয় বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছে এবং ভোটার তালিকায় নামও অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ওই পরিবারের সদস্য খুশি বেগম বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তাকে ওই ঘরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই বিশ্বাসে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সাড়ে তিন বছর পর এখন তাকে ঘর ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে, যা তার পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

খুশি বেগমের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে হালিমা আক্তার জানায়, ঘর ছাড়তে হলে তার পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে। সামনে পরীক্ষা থাকায় নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হবে বলেও সে জানায়।

এদিকে, বিদেশফেরত বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজের ঘর বুঝে নিতে চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বর্তমানে উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটছে ওই পরিবারের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, তৎকালীন সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকরাম আলী ইজারাদারের প্রভাব এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসার অভিযোগও উঠেছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের এ-৪/৯২ ও ৪৪ নম্বর সরকারি ঘর বিক্রির চেষ্টার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে বিক্রির এমন অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম আলী ইজারাদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

সুন্দরবন ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য জোসনা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের অধীন। এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা বা তথ্য নেই।

অন্যদিকে, বরাদ্দপ্রাপ্ত কাকলি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নাকচ করে বলেন, তিনি সরকারি নিয়ম মেনেই ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন এবং নিজের বরাদ্দকৃত ঘরের দখল বুঝে নিতে এসেছেন।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, অভিযোগটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তদন্তে সত্যতা মিললে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ উপজেলা বন্দোবস্ত কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রবাসীর নামে ঘর বরাদ্দ এবং বরাদ্দকৃত ঘর অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু একই পরিবারের নামে একাধিক ঘর বরাদ্দ, ঘর দখল এবং বিক্রির চেষ্টার মতো অভিযোগে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad