‘গণভোট অবৈধ হলে বর্তমান সংসদও অবৈধ’— সিরাজগঞ্জে বিরোধীদলীয় হুইপের মন্তব্য

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৮ বিকাল
  • ৭৩৫৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “গণভোটকে যদি অবৈধ বলা হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সংসদের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে টালবাহানা না করে দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে সিরাজগঞ্জ পৌর ভাসানী মিলনায়তনে সিরাজগঞ্জ শহর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের নিয়ে মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত প্রত্যেক পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দিতে হবে। পাশাপাশি আহত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যোদ্ধার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যারা কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের আইনের আওতায় এনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে সেই রায় কার্যকর করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই, তাই এটি অবৈধ। “যদি গণভোট অবৈধ হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সংসদও অবৈধ,”—এমন মন্তব্য করে তিনি দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

তিনি বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতার বক্তব্যেরও সমালোচনা করে বলেন, জনগণ গণভোট বুঝে দেয়নি—এমন মন্তব্য বাস্তবসম্মত নয়। এ বিষয়ে তিনি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, এখন অনেকেই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হওয়ার দাবি করছেন। কেউ লন্ডন, কেউ শিলংয়ের নাম বলছেন। এসব দাবি শুনলে ‘ঘোড়াও হাসবে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় বিরোধী দলের নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছিল এবং সেদিন বেগম খালেদা জিয়া বালুভর্তি ট্রাকের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন বেগম খালেদা জিয়া ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া অন্য অনেক নেতার ফোন বন্ধ ছিল।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহীনুর আলম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দীন ও অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি নাজমুল ইসলাম এবং জেলা খেলাফতে মজলিশের সেক্রেটারি মুফতি আমজাদ হোসাইনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad