সেপ্টেম্বরে শুরু হচ্ছে জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের জন্য ২,৩৬৪ ফ্ল্যাট নির্মাণ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ দুপুর
  • ৪৬৫৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে মোট ২ হাজার ৩৬৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে শহীদ পরিবারের জন্য ৮০৪টি এবং আহতদের জন্য ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে মূল্যায়নের কাজ চলছে। গেজেটভুক্ত শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আগামী মাসে সুবিধাজনক সময়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন। রাজধানীতে জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করাকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবাসন নিশ্চিত করা এসব পরিবারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা গেলে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, মিরপুরের কালশীতে মোট ৩৩টি ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে শহীদ পরিবারের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট ১২টি এবং ১৪ তলাবিশিষ্ট আরও ৬টি ভবন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে আহতদের জন্য ১৪ তলাবিশিষ্ট ১৫টি ভবনে মোট ১ হাজার ৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

সোহেল মনজুর বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই সরকারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আত্মত্যাগের তুলনায় এটি হয়তো বড় কিছু নয়, তবে সম্মান প্রদর্শনের একটি প্রতীক হিসেবে সরকার এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ভাতা এবং অন্যান্য সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবেও তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছেন। পিরোজপুরের নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ আন্দোলন রাতারাতি সৃষ্টি হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও জনঅসন্তোষের ধারাবাহিক ফল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন আন্দোলন, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, গুম এবং কথিত ‘আয়নাঘর’-এর মতো ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলনে রূপ নেয়।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিএনপির ছাত্রনেতারাও আন্দোলনে যুক্ত হন। এছাড়া বর্তমান এনসিপির নেতা সারজিস ও নাহিদসহ কয়েকজন পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন যে, লন্ডনে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্দোলনে দিকনির্দেশনা ও সমর্থন দিয়েছিলেন।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad