ব্যবসায়ীর টাকা আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির মামলায় নিজাম হাজারীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ সকাল
  • ১২০০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের ৯ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পারসিত চাকমা আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। মামলায় নিজাম হাজারীসহ আটজনকে আসামি করা হয়।

চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আহসান আদেলুর রহমান, জিনাত রেজওয়ানা, নিজাম হাজারীর নিকটাত্মীয় আবদুল আউয়াল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাকিব মিঞা, ঝালকাঠির আলিম তালুকদার, ফেনী শহরের বারাহিপুরের কহিনুর আক্তার এবং সুলতানপুরের ফারহানা আক্তার।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে জিনাত রেজওয়ানার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্রে জিনাত রেজওয়ানার কাছে আনোয়ার হোসেনের পাওনা টাকা ছিল। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তার বিরুদ্ধে কোম্পানির প্যাড ও চেক চুরির অভিযোগ তুলে দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের পর বিষয়টি আবদুল আউয়াল, কহিনুর আক্তার ও ফারহানা আক্তারের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আহসান আদেলুর রহমানকে জানানো হয়। পরে তিনি বিষয়টি নিজাম হাজারীকে জানান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর নিজাম হাজারী আনোয়ার হোসেনের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনকে নিজাম হাজারীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। বাকি টাকা পরদিন দেওয়ার শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে জিনাত রেজওয়ানাকে নিয়ে আরও কিছু তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, নিজাম হাজারীর প্রভাব খাটিয়ে তিনি কয়েকবার ফেনী সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া জিনাত রেজওয়ানার বিরুদ্ধে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত মামলা থাকার কথা তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad