এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগে পরে তৈরি শর্ত চাপিয়ে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৪ দুপুর
  • ৬৬৫৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় যে বিধিমালা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে প্রণীত কোনো শর্ত বা বিধি অতীত থেকে কার্যকর দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্জিত আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এমপিও সংক্রান্ত চার শিক্ষকের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে আদালত এ গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন।

‘মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ মামলায় গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মী রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি বিচারপতি উর্মী রহমান।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান (রেগুলেশন ২০১৫) অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক (তৃতীয় শিক্ষক) পদে মো. আবু হানিফসহ চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরদিন ৩০ ডিসেম্বর তারা নিজ নিজ পদে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের এনটিআরসিএ পরিপত্র জারির আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ পাওয়া তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় ওই চার শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তাদের এমপিও আবেদন ‘এনটিআরসিএ সনদ নেই’—এই কারণ দেখিয়ে প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন চার শিক্ষক।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, প্রশাসনিক প্রয়োজনে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারে। তবে নতুন কোনো বিধি বা শর্তের মাধ্যমে আগে থেকেই চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মচারীর অর্জিত অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

আদালত আরও বলেন, নিয়োগের সময় কার্যকর থাকা প্রবিধানই সংশ্লিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। ২০১৫ সালে ওই চার শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের জন্য এনটিআরসিএ সনদের শর্ত প্রথম যুক্ত করা হয় ২০১৯ সালের প্রবিধানে।

তৃতীয় শিক্ষক পদ জনবল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়—রাষ্ট্রপক্ষের এমন দাবির বিষয়েও আদালত বলেন, সরকার নিজেই বিভিন্ন সময়ে পরিপত্র জারি করে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এ পদ জনবল কাঠামোয় নেই—এমন দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেন, এমপিও মঞ্জুর করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও যুক্তিসংগত আইনগত ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশি বা স্বেচ্ছাচারীভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় বিচারযোগ্য।

চূড়ান্ত রায়ে এনটিআরসিএ সনদ না থাকার অজুহাতে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের অনলাইন সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে রিটকারী চার শিক্ষককে এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়াসহ আর্থিক সুবিধা চার রিটকারীকে পরিশোধ করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি ও মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad