পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র কমান্ডার মোহেব্বি বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধের আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি যুদ্ধজাহাজ ছিল। তবে বর্তমানে সেখানে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নেই।
ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের বরাত দিয়ে প্রেস টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, রমজান যুদ্ধের আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ থেকে ৪০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল। কিন্তু বর্তমানে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজও নেই বলে দাবি করেন তিনি।
কমান্ডার মোহেব্বি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো হুমকি দেওয়া হলে এর প্রভাব শুধু সামরিক স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। লাখ লাখ মাইলজুড়ে বিস্তৃত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, হাজার হাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো এবং ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত বৈশ্বিক অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হলো একই সময়ে একাধিক রণাঙ্গনে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা। ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঘটনা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে ইরানি কর্মকর্তার এসব বক্তব্য দেশটির রাষ্ট্রীয় ও সরকারি ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি থেকে পাওয়া। পারস্য উপসাগরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই—এই দাবির স্বাধীন আন্তর্জাতিক যাচাই এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক