জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ সকাল
  • ৭৫৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই কালজয়ী কবিকে স্মরণে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’-য় কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে কবির সমাধিতে যান। সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্মারক বক্তৃতা করবেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

এদিকে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নজরুল ইনস্টিটিউটে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মাওলা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতেও দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম জীবনভর অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি যুগান্তরের কবি। যেকোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে নজরুল মানুষকে শিখিয়েছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের চেতনা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলে নজরুলের বাণী মানুষকে রুখে দাঁড়াতে শেখায়।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসামান্য অবদান রাখেন। কবিতা, গান, গজল, হামদ-নাত, নাটক ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রয়েছে।

মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে নজরুল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। তাঁর কবিতা ও গান মানুষের মধ্যে জাগিয়েছে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনা।

১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও তাঁর সাহিত্যকর্ম অন্যায়, শোষণ, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর অমর সৃষ্টিই তাঁকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad