শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে খুলনার তেরখাদা উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, টাকা-পয়সা, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি রাষ্ট্রের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ ১১ দলের পক্ষে যে জনজোয়ার সৃষ্টি করেছিল, তা শুধু তেরখাদায় নয়, সারা দেশেই দেখা গিয়েছিল। মানুষ দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিল। পাশাপাশি ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অর্থ পাচার, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মামলা, রিমান্ড ও কারাবন্দিত্ব বন্ধের প্রত্যাশাও ছিল।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সময় ‘ফ্যাসিবাদ’ ও ‘আওয়ামী লীগ খারাপ’—এমন স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগকে বিদায়ের পেছনে যেসব অভিযোগ ছিল, দেশ এখন প্রায় একই পথেই যাচ্ছে। সরকারের ছয় মাসকে অল্প সময় হিসেবে দেখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছয় মাস কোনোভাবেই কম সময় নয়।
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, সরকারি সুযোগ-সুবিধার তালিকা তৈরিতে দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং বিএনপির বাইরে অন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের নাম তালিকায় রাখা হচ্ছে না।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, রূপসায় ঘরে ঘরে সন্ত্রাস ও মাস্তানি বেড়েছে। অস্ত্র নিয়ে সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে। নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে নয় মাসে ৭২টি বৈঠক করে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও বিচারিক বিষয়ে ৮৪টি সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার যাতে ফ্যাসিবাদী বা কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় অগ্রাহ্য করার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। একই রাষ্ট্রপতির আদেশে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটিকে গ্রহণ করে অন্যটি অস্বীকার করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ৩১ দফার প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিশন গঠনের কথা বলেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে মৌলিক সংস্কারের পরিবর্তে শুধু সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধান থাকতে পারবেন না—জুলাই সনদে এমন প্রস্তাব সব দল মেনে নিয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
সমাবেশ শেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দেন গোলাম পরওয়ার। এ সময় তিনি এসব প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করার জন্য উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তেরখাদা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শেখ হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. নাহিদ হাসান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার