চ্যাম্পিয়নস লিগে শুরুতেই হাইভোল্টেজ লড়াই, মুখোমুখি ইউরোপের পরাশক্তিরা

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪২ দুপুর
  • ১০৬৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
নতুন মৌসুম শুরুর আগেই জমে উঠেছে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ড্রয়ে লিগ পর্বে অংশ নেওয়া ৩৬ দলের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে লিগ পর্বের ম্যাচ। শুরুতেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর একাধিক হাইভোল্টেজ লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

লিগ পর্বে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উল্লেখযোগ্য ম্যাচগুলো হলো—

রিয়াল মাদ্রিদ–ইন্টার মিলান

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আতিথ্য দেবে ইতালির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানকে। ১৬তম ইউরোপীয় শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবে রিয়াল। অন্যদিকে ইন্টারের বড় ভরসা আর্জেন্টাইন তারকা ও অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ।

দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেবার ২-০ গোলে জিতেছিল রিয়াল। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে রিয়ালের জয় সাতটি, ইন্টারের পাঁচটি এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জয় পেয়েছিল ইন্টার। ১৯৬৪ সালের ফাইনালে রিয়ালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা জিতেছিল ইতালির ক্লাবটি।

আর্সেনাল–রিয়াল মাদ্রিদ

এমিরেটস স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। গত মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। দুই লেগেই জয় পেয়েছিল আর্সেনাল—ইংল্যান্ডে ৩-০ এবং স্পেনে ২-১ গোলে।

এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমের শেষ ষোলোর লড়াইয়েও রিয়ালকে হারিয়েছিল আর্সেনাল। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের বিপক্ষে এখনো অপরাজিত উত্তর লন্ডনের দলটি।

পিএসজি–বার্সেলোনা

গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির সামনে এবার বার্সেলোনা। তৃতীয় ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে থাকা প্যারিসের ক্লাবটি গত মৌসুমের লিগ পর্বে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল।

তবে দুই দলের লড়াইয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ২০১৬-১৭ মৌসুমের শেষ ষোলো। প্রথম লেগে ৪-০ গোলে জিতেছিল পিএসজি। কিন্তু ক্যাম্প ন্যুতে ফিরতি লেগে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৬-১ গোলে জয় পায় লিওনেল মেসিদের বার্সেলোনা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।

ম্যানচেস্টার সিটি–পিএসজি

শিরোপা ধরে রাখার পথে পিএসজির সামনে আরেক কঠিন পরীক্ষা ম্যানচেস্টার সিটি। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সিটি এগিয়ে—জয় চারটি, হার দুটি ও ড্র একটি। নকআউট পর্বে আগের দুই সাক্ষাতেও জয় পেয়েছিল ইংলিশ ক্লাবটি।

তবে সর্বশেষ দেখায় জয় পেয়েছিল পিএসজি। ২০২৪-২৫ মৌসুমের লিগ পর্বে সিটিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ফরাসি ক্লাবটি।

অ্যাস্টন ভিলা–পিএসজি

লিগ পর্বের চতুর্থ রাউন্ডে ভিলা পার্কে মুখোমুখি হবে অ্যাস্টন ভিলা ও পিএসজি। ২০২৪-২৫ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালেও দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেবার লুইস এনরিকের দল পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয়।

এবার ঘরের মাঠে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পাবে ভিলা। তবে তাদের খেলতে হবে দিবু মার্তিনেজকে ছাড়া। দলের হয়ে আলেক্সান্দার গারনাচো ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাইবেন।

ম্যানচেস্টার সিটি–বার্সেলোনা

লিগ পর্বের প্রথম দিকের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে পারে ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার লড়াই। সর্বশেষ ২০১৬ সালের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়ে ৩-১ গোলে জিতেছিল সিটি।

তবে সামগ্রিক মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে বার্সেলোনা। দুই দলের আগের লড়াইয়ে বার্সার জয় পাঁচটি, সিটির একটি।

ইন্টার মিলান–লিভারপুল

সান সিরোতে মুখোমুখি হবে ইন্টার মিলান ও লিভারপুল। ম্যাচটির বাড়তি আকর্ষণ দুই আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী তারকা লাউতারো মার্তিনেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মুখোমুখি লড়াই।

গত মৌসুমে মিলানে লিভারপুল ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল। এবার নিজেদের মাঠে সেই হারের জবাব দিতে চাইবে ইন্টার।

লিভারপুল–অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার পর অ্যানফিল্ডে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে লিভারপুল।

ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এটি দুই দলের অষ্টম সাক্ষাৎ। আগের সাত ম্যাচে লিভারপুলের জয় তিনটি, অ্যাটলেটিকোর দুটি এবং ড্র হয়েছে দুটি। গত মৌসুমের লিগ পর্বে লিভারপুলের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। এবার সেই হারের জবাব দিতে চাইবে তারা।

আর্সেনাল–বায়ার্ন মিউনিখ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের সামনে এবার বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। গত মৌসুমের লিগ পর্বে বায়ার্নকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল আর্সেনাল।

তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দুই দলের সামগ্রিক ইতিহাসে এগিয়ে বায়ার্ন। এখন পর্যন্ত জার্মান ক্লাবটির জয় আটটি, আর্সেনালের চারটি এবং ড্র হয়েছে তিনটি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, দুই দলের পাঁচটি নকআউট লড়াইয়ের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে বায়ার্ন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–বায়ার্ন মিউনিখ

দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে বায়ার্ন মিউনিখ। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউরোপের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের লড়াইটি তাই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সামগ্রিক মুখোমুখি পরিসংখ্যানে বায়ার্ন এগিয়ে। জার্মান ক্লাবটির জয় ছয়টি, ড্র পাঁচটি এবং ইউনাইটেডের জয় দুটি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির স্মৃতি এখনো ইউনাইটেড সমর্থকদের কাছে উজ্জ্বল। ১৯৯৮-৯৯ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ে বায়ার্নকে হারিয়ে দ্বিতীয় ইউরোপীয় শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad