‘গভীর ষড়যন্ত্র’ দেখছেন ব্যবসায়ীরা, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাইলেন
কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই উচ্ছেদ করে গাবতলীতে স্থানান্তরের উদ্যোগকে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা কারওয়ান বাজারের মধ্যেই উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে স্থায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বর্তমান আয়তন ঠিক রেখে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টায় কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের দাবি ও উদ্বেগ তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ চান তারা। তাদের দাবি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মার্কেট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্তটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই মধ্যে মার্কেট ছাড়ার বিষয়ে মাইকিং করায় ব্যবসায়ীরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলহাজ মোহাম্মদ শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, কারওয়ান বাজারের ব্যবসার ইতিহাস প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো। আশির দশকে সালামি ও নির্মাণ-উন্নয়ন ব্যয় পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা স্থায়ী বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এরপর থেকে তারা নিয়মিত সিটি করপোরেশনের রাজস্ব, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, আয়কর-ভ্যাট, ইউটিলিটি চার্জ এবং মার্কেট রক্ষণাবেক্ষণ ফি পরিশোধ করে আসছেন।
তিনি বলেন, স্থায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত মার্কেটগুলোতে দোকানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এসব দোকানের সঙ্গে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পাইকারি ব্যাপারীসহ প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই মার্কেট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, তা তাদের বোধগম্য নয়। মার্কেট ছাড়ার বিষয়ে মাইকিং করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রেতারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ ও মাইকিংয়ের তীব্র নিন্দা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া; যানজট নিরসনে পেট্রোবাংলা থেকে জনতা টাওয়ার পর্যন্ত সড়ক এবং ভিআইপি রোডের সংযোগ সড়কগুলো—মসজিদের উত্তর গেট, ওয়াসা, ইত্তেফাক ও হোটেল লা ভিঞ্চির সামনের সড়ক—অবৈধ দখলমুক্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা; এবং কারওয়ান বাজারের মধ্যেই উন্নত বিশ্বের আদলে একটি আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে স্থায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বর্তমান দোকানের আয়তন ঠিক রেখে সেখানেই পুনর্বাসন করা।
দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন খান, দেলোয়ার হোসেন তালুকদার, আজাদ হোসেন খান, বেলায়েত হোসাইন, ফিরোজ আলম, আবু বকর সিদ্দিক, হাজি মো. জহিরুল ইসলাম, মো. মজিবুর রহমান ও সাইফুর রহমান চৌধুরীসহ ব্যবসায়ী নেতারা।
উল্লেখ্য, কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার স্থানান্তরের উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। গত কয়েক বছরে একাধিকবার এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবারের পরিকল্পনায় প্রাথমিকভাবে স্থায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত দোকানের পাশাপাশি একসনা বন্দোবস্তের দোকানগুলোও গাবতলীতে স্থানান্তরের কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের আপত্তি ও পাল্টা প্রস্তাবের ধারাবাহিকতা এবারও অব্যাহত রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক