সোমবার সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার নয়ন কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার উত্তর কৈয়ারবিল এলাকার সুনীল চন্দ্র নাথের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার গহিন পাহাড়ি এলাকার শ্রী শ্রী পাতাল কালী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় মন্দির থেকে একটি পিতলের ত্রিশূল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দানবাক্স ভেঙে আনুমানিক ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা চুরি করা হয়।
চুরির বিষয়টি জানার পর মন্দিরের লোকজন পুলিশকে অবহিত করেন। এ সময় মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা। পরে জেলা পুলিশের তদারকিতে চোর শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকা থেকে নয়ন চন্দ্র নাথকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে খণ্ডিত ত্রিশূলটি উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, মন্দির পরিচালনা কমিটি জেলা পুলিশকে চুরির বিষয়টি জানায়। পরে সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। মন্দিরটি ভূজপুরে হলেও আসামিকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন চন্দ্র নাথ চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি ভক্তের বেশে মন্দিরে প্রবেশ করে সুযোগ বুঝে ত্রিশূল নিয়ে যান এবং দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি করেন। এর আগেও তিনি ওই মন্দিরে চুরি করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী শিমুল কুমার নাথ জানান, চুরি হওয়া ত্রিশূলটি পিতলের তৈরি এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণ পূজা দিয়ে বের হওয়ার পর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে। পরে তারা ভূজপুর থানায় অভিযোগ করেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, চুরির পর মন্দিরের লোকজন পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর শুরুতে তারা মামলা করতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে পুলিশের অনুরোধ ও চাপের মুখে মামলা দায়ের করেন তারা।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় নয়নকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক