১১ দলের লংমার্চে বাধা দিলে সরকারের প্রতি জনঅনাস্থা বাড়বে: গোলাম পরওয়ার

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫ রাত
  • ২০২৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনে কোনো ধরনের বাধা বা উসকানি না দিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা আরও বাড়বে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জনদুর্ভোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার মধ্য দিয়ে সরকার ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। আস্থাহীনতার সংকট নিয়েই সরকারের ছয় মাস পার হয়েছে। এ অবস্থায় জনগণের ছয় দফা দাবি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য তথা বৃহৎ বিরোধীদলের কর্মসূচি হিসেবে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তত এই ছয় মাসে একটি কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করে প্রমাণ করুন যে গণতন্ত্র ও গণমতের প্রতি আপনাদের ন্যূনতম আন্তরিকতা রয়েছে। পথে কোথাও বাধা, ভয়, নাশকতা বা কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যে মানবিক, বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা আবারও প্রমাণিত হবে।

তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকার সহযোগিতা করছে—এটি প্রমাণ করার সুযোগ এখনো রয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের আচরণ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হামলা ও অপদস্থ করার ঘটনাগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের প্রতিদান নিয়ে সংশয় তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে বিরোধী দলের লংমার্চে বাধা দিয়ে কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। এ ধরনের কর্মসূচিতে সরকারের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

জ্বালানি খরচ নিয়ে কর্মকর্তার বক্তব্যের সমালোচনা

লংমার্চের গাড়িবহরে এক লাখ লিটার জ্বালানি খরচ হবে—সরকারের এক কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, গাড়ি রাস্তায় চলাচল করবেই, ফলে তেল খরচ হবে। এ নিয়ে হিসাব করা হাস্যকর। গাড়ি বন্ধ করে জ্বালানি সংকটের সমাধান করা যাবে না।

ছয় দফা দাবি

লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। দাবিগুলো হলো—

১. অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা।
২. জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
৩. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন করা।
৪. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন করা।
৫. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা।
৬. প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

শাপলা চত্বর থেকে যাত্রা

গোলাম পরওয়ার জানান, শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর শাপলা চত্বরে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চ বহরের যাত্রীদের পাশাপাশি ঢাকাবাসীকেও এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সকাল ৮টায় শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হবে।

এরপর নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে কুমিল্লার পদুয়াবাজার, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা হবে। সর্বশেষ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পথসভাগুলোতে ১১ দলের নির্ধারিত শীর্ষ নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেবেন। এর বাইরে অনির্ধারিত আরও কিছু পথসভা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পথসভাগুলো স্থানীয় সংগঠন বাস্তবায়ন করবে। লংমার্চ বহরের যাত্রীরা সেখানে নামবেন না; শুধু নেতারা বক্তব্য দেওয়ার জন্য নামবেন। অংশগ্রহণকারীদের খাবারের ব্যবস্থা নিজেদের দায়িত্বে করতে হবে।

ঢাকা থেকে প্রায় এক হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ শুরু হবে জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, পথে আরও গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে। সর্বশেষ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে জোটের পক্ষ থেকে লংমার্চ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় এ ধরনের কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তাদের নেই।

তিনি বলেন, লংমার্চে তারা সড়কের এক পাশ ব্যবহার করবেন। এরপরও সাধারণ যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে। এ জন্য তিনি আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন।

‘বাধা এলে কঠিন প্রতিরোধ’

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভাসহ ১১ দলীয় ঐক্যের জনশক্তি অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাবে। কর্মসূচিতে কোনো বাধা এলে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। বাধা এলে লড়াই হবে এবং সেই লড়াইয়ে ১১ দলীয় ঐক্য জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মোর্শেদ সিদ্দীকী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারাক হোসাইন ও ড. রেজাউল করিম এবং বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈমসহ অন্যরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad