ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসি মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, নাগরিক ও প্রশাসন সবাই দায়িত্বশীল হলে ঢাকা উত্তর সিটিকে একটি মডেল নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে সাত দিনের পরিচ্ছন্নতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির শেষ দিনে উত্তরা-দক্ষিণখান পূর্ব থানার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিদুরপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, দক্ষিণখানের বিদুরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লার একটি বড় স্তূপ ছিল। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে সেটি পরিষ্কার করা হয়েছে এবং ফুটপাতটি মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
তিনি প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে সেভাবে কাজ হচ্ছে না। সবাই সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
বিদুরপাড়া এলাকার ময়লার স্তূপ দ্রুত অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনকে সময় দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ওই এলাকায় মসজিদ রয়েছে। মসজিদের পবিত্রতা ও মুসল্লিদের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ময়লা অপসারণ করা জরুরি।
তিনি বলেন, প্রশাসন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের লোকজনই ওই স্থান পরিষ্কার করবেন। প্রয়োজনে পুরো সিটিতে যেভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে, একইভাবে এখানেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হই, তাহলে এই দেশকে একটি মডেল দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’
পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে দেখানোর জন্য এ কর্মসূচি করা হয়নি। নিজেদের ঈমানি দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এ কাজ করেছেন। সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগ থাকলে সেটিকেও স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, বর্জ্যকে শুধু ময়লা হিসেবে দেখলে হবে না। পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু প্রশাসন এখনো এ সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।
তিনি জানান, শিগগিরই বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে কলম তৈরি করে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এতে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে।
তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবে তরুণদের বিদেশে যেতে হবে—এমন বাংলাদেশ তারা চান না। ঢাকার মধ্যেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব দিয়ে দেখুন, আমরা আপনাদের জন্য কী করতে পারি।’ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ঢাকা উত্তর সিটিকে আধুনিক ও মডেল নগরীতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুরি, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নানা সংকটের সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন এই মেয়র প্রার্থী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম জোন পরিচালক ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো. জামাল উদ্দিন, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ডা. হাবিবুর রহমান, দক্ষিণখান পূর্ব থানা আমির মো. আবু সাঈদ, দক্ষিণখান পূর্ব থানার সেক্রেটারি ডা. জাকিরুল ইসলাম এবং দক্ষিণখান পূর্ব থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রহমাতুল্লাহ।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স