জেলার বিভিন্ন এলাকার আমনখেত ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সার প্রয়োগ করছেন। আবার কেউ পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে ধানের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছেন।
আমন চাষি সালাম মিয়া বলেন, নিয়মিত বৃষ্টির কারণে এবার জমিতে বাড়তি সেচ দিতে হয়নি। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। ফলে ধানের গাছের অবস্থাও ভালো।
কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, এ সময়ে আমন ধানে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকাসহ বিভিন্ন রোগবালাইয়ের আক্রমণ হতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ফলনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও কার্যকর কীটনাশক সহজলভ্য থাকা দরকার।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে অনেক সময় নিম্নমানের কীটনাশক বিক্রি হয়। না বুঝে এসব কীটনাশক ব্যবহারে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি বাড়তি খরচও হয়। এ কারণে মানসম্মত কীটনাশক নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার খারুয়ার বাজার চর এলাকার কৃষক সুলতান বলেন, ভালো ফলনের জন্য সময়মতো সার প্রয়োগ করতে হয়। পোকামাকড় দেখা দিলে কার্যকর কীটনাশকও ব্যবহার করতে হয়। মানসম্মত কীটনাশক না পেলে ফলন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক রাসেল মিয়া বলেন, এবারকার আবহাওয়া ধানের জন্য ভালো। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো মানের কীটনাশক পাওয়া গেলে আমনের ফলন ভালো হবে।
সারের সংকট নেই: কৃষি বিভাগলালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মতিউল আলম বলেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। বাজারে নিম্নমানের কীটনাশক যাতে ঢুকতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাঝে মাঝে খুচরা বিক্রেতাদের দোকান থেকে কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা হয়। মান ভালো না হলে ওই পণ্য বাজারজাত বন্ধ করা হয়।
কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৬ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় আবাদ কিছুটা কম হলেও কৃষকরা এখন অন্যান্য ফসল ও সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষক ও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স