লাকসাম–চট্টগ্রাম রেলপথ ডুয়েলগেজে উন্নীত করতে ব্যয় প্রস্তাব প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ দুপুর
  • ১৬৮৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথ আধুনিকায়ন ও ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকে উন্নীত করতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে গতি আসবে বলে আশা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অর্থায়নে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) যৌথ অর্থায়ন থেকে ১৪ হাজার ১২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা প্রাথমিকভাবে বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনে পরিবেশগত সুরক্ষা, সিগন্যালিংসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজের জন্য ১৩ হাজার ৭৬৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার একটি ব্যয় প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাড়বে ট্রেনের গতি, উন্নত হবে নিরাপত্তা

প্রকল্পের আওতায় রেলপথের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রকৌশল ও পরামর্শক সেবার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্রডগেজ ট্রেনের নকশাগত গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার এবং মিটারগেজ ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া রেলপথে কনটেইনার পরিবহনের হার বর্তমানের ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা

ঢাকা–লাকসাম–চট্টগ্রাম রেলপথের অবশিষ্ট অংশ ডুয়েলগেজে উন্নীত করা গেলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেল সংযোগের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে কক্সবাজার ও মাতারবাড়ী বন্দরকেন্দ্রিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।

একই সঙ্গে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভবিষ্যৎ রেল যোগাযোগ এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলপথের সংযোগের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। এতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

উপকৃত হবেন বৃহত্তর লাকসামের মানুষ

রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–লাকসাম–চট্টগ্রাম রেলপথের বিভিন্ন অংশে ডাবল লাইন ও ডুয়েলগেজ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ঢাকা–টঙ্গী ২২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার এবং আখাউড়া–লাকসাম ৭১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার রেলপথ মিটারগেজ সিঙ্গেল লাইন থেকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হয়।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কুমিল্লা–ঢাকা রেল কর্ডলাইন এবং লাকসাম–চট্টগ্রাম অংশসহ অবশিষ্ট রেলপথ ডুয়েলগেজে উন্নীত করা প্রয়োজন। সরকার ও রেলপথ মন্ত্রণালয় রেল যোগাযোগ আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।

রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. তোশিয়া আহমেদ বলেন, রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করতে সরকার ও রেলপথ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশনমাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লাকসাম–নোয়াখালী, লাকসাম–চাঁদপুর ও লাকসাম–সিলেট রেলপথ ব্যবহারকারী যাত্রীসহ বৃহত্তর লাকসামের মানুষ উপকৃত হবেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad