গুরুদাসপুরে জনবসতি ও কৃষিজমির পাশে ১১ ইটভাটা, লাইসেন্স আছে মাত্র দুটির

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg গুরুদাসপুর
নাটোরের গুরুদাসপুরে আইন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জনবসতি ও কৃষিজমির পাশে গড়ে উঠেছে ১১টি ইটভাটা। এর মধ্যে মাত্র দুটির লাইসেন্স রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অধিকাংশ ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। এতে পরিবেশদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষিজমি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

উপজেলার পৌর সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাটাগুলোর চিমনির উচ্চতা কম হওয়ায় নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আইন অনুযায়ী, তিন ফসলি জমি, বনভূমি ও আবাসিক এলাকার কাছে ইটভাটা স্থাপন এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু গুরুদাসপুরে এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটায় সরবরাহ এবং কাঠখড়ি পুড়িয়ে ইট তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

ইট ও মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ট্রাক্টর-ট্রলির চলাচলে গ্রামীণ পাকা সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ফসলি জমি কমে যাওয়ায় এলাকায় ধানের আবাদ প্রায় ১০০ টন কমেছে।

১১ ভাটার মধ্যে লাইসেন্স মাত্র দুটির

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র দুটির লাইসেন্স রয়েছে। পৌর এলাকায় অবৈধ পাঁচটি ভাটা হলো—মেসার্স এমবিপি ব্রিক্স, মেসার্স একেবি ব্রিক্স, মেসার্স এমডিআর ব্রিক্স, মেসার্স এমডিএস ব্রিক্স ও মেসার্স এএমবি ব্রিক্স।

এ ছাড়া সাহাপুর, হাজীর হাট ও চন্দ্রপুর এলাকায় রয়েছে মেসার্স এইচবিবি ব্রিক্স, মেসার্স এইচআরবি ব্রিকস, মেসার্স এইচকেবি ব্রিকস, মেসার্স এমএসবি ব্রিক্স, মেসার্স এমডিপি ব্রিক্স ও মেসার্স আরআরবি ব্রিকস।

এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে উপজেলার নয়টি অবৈধ ইটভাটাকে মোট ২৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না কার্যক্রম

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পর কিছুদিন ভাটার কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে আবার চালু হয়। জনস্বার্থে এসব অবৈধ স্থাপনা পুরোপুরি উচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন স্বীকার করেছেন, কোনো ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য, স্থানীয় বাসিন্দা, উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য;।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad