এক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। আগের কার্যদিবসে ২ শতাংশের বেশি বাড়ার পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯২৬ ডলার ৫২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের কার্যদিবসে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৫৪ ডলার ৪১ সেন্টে পৌঁছেছিল। শুক্রবার এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর সোমবার দাম বাড়লেও মঙ্গলবার আবার নিম্নমুখী হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৩৬ ডলার ৩০ সেন্টে নেমেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, গত সপ্তাহের বড় দরপতনের পর স্বর্ণের বাজার এখনো স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কেনার পরিবর্তে অন্যান্য বাজারের লোকসান ও মার্জিন কলের চাপ সামলাতে সহজে নগদে রূপান্তরযোগ্য সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ বিক্রি করছেন। এ প্রবণতা দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা
স্বর্ণের দামের ওঠানামায় যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জ্বালানির দাম বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ে। এতে ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যায়।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—বাজারে এমন সম্ভাবনা ৭৪ শতাংশ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নজর
বিনিয়োগকারীরা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছেন। ইরানের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছে, আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দিন ধরে আলোচনা হলেও প্রস্তাবে পরিবর্তন এসেছে; তবে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
অন্যদিকে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
কমেছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম
স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪৯ ডলার ৭১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৪৬ ডলার ৮০ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯৫৩ ডলার ৬৪ সেন্ট হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক