শুক্রবার সকাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার নরসিংহপুর, বাইপাইল, জিরাবো ও পুকুরপাড় এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে দেখা যায়। কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা শ্রমিকদের পরিচয়পত্র যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
দুপুর ১টা পর্যন্ত কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ছুটির দিনেও ৮০ শতাংশ উপস্থিতি
বিভিন্ন কারখানার মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শ্রমিক উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে শনিবার থেকে শ্রমিক উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং শতভাগ শ্রমিক কাজে ফিরবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সকালে ঢাকা-আরিচা ও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের পাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে খুলে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
নিরাপত্তায় পুলিশ-বিজিবি, দায়িত্বে ম্যাজিস্ট্রেট
শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির ১৩ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের একাংশে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা আটজন এবং অন্য অংশে ১০ জন উল্লেখ করা হয়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাকে শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, একটি মহল পুলিশকে লক্ষ্য করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
৭ মামলায় গ্রেপ্তার ৩৬
গত পাঁচ দিনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় সাতটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কয়েক হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউ শ্রমিক নন।
অন্যদিকে, শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন শিল্পী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মজুরি কমিশন বোর্ডের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে শ্রমিকেরা ডিসেম্বর মাসের বর্ধিত বেতন পাবেন।
একজন পোশাক কারখানার মালিকের দাবি, শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার থেকেই অনেক কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে কয়েক দিন ধরে সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ এবং শ্রমিক-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পাঁচ দিনের উত্তেজনার পর শুক্রবার পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক