টেস্টোস্টেরনকে সাধারণত পুরুষদের প্রধান যৌন হরমোন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নারীদের শরীরেও নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি থাকে। হাড়ের স্বাস্থ্য, যৌন আকাঙ্ক্ষা, পেশির গঠনসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে এ হরমোন ভূমিকা রাখে। শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে হাড়ের দুর্বলতা, যৌন আগ্রহ হ্রাস এবং নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রে অনিয়ম দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ইট দিস, নট দ্যাট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থূলতা, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ব্যবহার, থাইরয়েডের সমস্যা এবং খাদ্যাভ্যাসসহ বিভিন্ন কারণে টেস্টোস্টেরনের মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কিছু খাবার সরাসরি এ হরমোন বাড়ায়—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বরং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের মাধ্যমে এসব খাবার শরীরের স্বাভাবিক হরমোন কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে পাঁচটি খাবার।
১. কুমড়ার বীজকুমড়ার বীজ জিংকের ভালো উৎস। শরীরে টেস্টোস্টেরন উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে জিংকের ঘাটতি থাকলে হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জিংকের ঘাটতিতে ভোগা বয়স্ক ব্যক্তিদের ছয় মাস জিংক সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার পর তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তবে এ ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একই হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
২. আদারান্নায় বহুল ব্যবহৃত আদায় রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান। এসব উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্তে শর্করার ভারসাম্য ও রক্তপ্রবাহের ওপরও আদার ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে।
কিছু গবেষণায় আদা গ্রহণের সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত মানবভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন।
৩. ডালিমের রসডালিমে রয়েছে পলিফেনল নামের প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন গবেষণায় ডালিমের রস পান করার সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ডালিমের রসকে টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। চিনি ছাড়া পরিমিত পরিমাণে ডালিমের রস পান করা যেতে পারে।
৪. দুধদুধ ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও বিভিন্ন ভিটামিনের ভালো উৎস। এতে বোরনসহ কিছু খনিজ উপাদানও থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসরাইলের আরিয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বোরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। দুধ ছাড়াও মটর, আলুবোখারা, আলু ও বিভিন্ন শাকসবজি থেকে বোরন পাওয়া যায়। তবে বোরন গ্রহণের মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন বাড়ে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই।
৫. স্যামন মাছস্যামন মাছ ভিটামিন ডি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও সেলেনিয়ামের ভালো উৎস। এসব পুষ্টি উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্য, হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
ব্রাজিলের নর্থ ফ্লুমিনেন্স স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাডুয়ার যৌথ গবেষণায় স্যামন মাছের তেল গ্রহণের সঙ্গে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ ফলাফলকে সরাসরি স্যামন মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও গুরুত্বটেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। নিজে থেকে হরমোন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক শারীরিক কারণ থাকতে পারে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স