বিএনপি নেতার ভাঙারির দোকান থেকে উদ্ধার হলো' ভূমি অফিসে চুরি হওয়া সরকারি মালামাল
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংঘটিত চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে তদন্ত। পুলিশের অভিযানে চুরি হওয়া সরকারি মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আইয়ুব আলী খানের ভাড়া নেওয়া ভাঙারির দোকান থেকে। এ ঘটনায় তার শ্যালক মো. হালিমকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৩১ মে) সকালে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে অফিস শেষে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সুমন গাঙ্গুলী অফিসের সব কক্ষ ও প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান।
রোববার সকালে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশে অফিসে এসে তিনি দেখতে পান, অফিসের দরজার তালা ভাঙা এবং জানালার গ্রিল কাটা। দুর্বৃত্তরা অফিস থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, পানির মোটরসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দৌলতদিয়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি ভাঙারির দোকানে অভিযান চালায়। দোকানটি মো. আইয়ুব আলী খান ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে। অভিযানে সেখানে থেকে ভূমি অফিসের চুরি হওয়া পানির মোটরসহ কয়েকটি মালামাল উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দৌলতদিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। চুরি হওয়া মালামালের বড় একটি অংশ ভাঙারির দোকানগুলোতে বিক্রি করা হয়। প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং কিছু দোকান মালিকের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে চোরাই পণ্যের বেচাকেনা সহজ হয়ে উঠেছে বলে তাদের দাবি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. আইয়ুব আলী খান। তিনি বলেন, “স্থানীয় শহিদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সরকারি অফিসের চোরাই মালামাল আমার দোকানে রাখা হয়েছে বলে আমার ধারণা।”
গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সুমন গাঙ্গুলী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করবেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “চুরির ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চুরি হওয়া সরকারি মালামাল একটি ভাঙারির দোকান থেকে উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ